সিবিএন ডেস্ক 

কক্সবাজারের রামুতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবীণ ব্যক্তি ও নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মো. ওসমান (৫০) নামে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১ নম্বর আসামি মো. শহিদুল্লাহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকূল ইউনিয়নের ঢালারমুখ (ঘোনার পাড়া) এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের স্বজন মোছা. উর্মি কামাল আনিছা বাদী হয়ে রামু থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—মো. শহিদুল্লাহ (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৫৩), রশিদ আহমদ (৬০), ছালেহ আহাম্মদ (৫৮), মো. শাহরিয়ার নাজিম (২১), জয়নাল আবেদীন (৫৪), মো. সাইয়েদ (৩০), আব্দুল্লাহ মো. নোমান (২৮), আব্দুল্লাহ মো. জিনান (২৫), আব্দুল্লাহ মো. আদনান (২২) ও মো. সামির (২০)। এজাহারে তাঁদের সবাইকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকূল ইউনিয়নের দক্ষিণ দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজারকূল মৌজার ৮৯০৯ নম্বর দাগ, বিএস খতিয়ান ১০৩৪ এবং সৃজিত বিএস ৩৯৮৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রামু মামলা নং ৪৪৬/২০২৬ বিচারাধীন রয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয় পক্ষকে কোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১ নম্বর আসামি মো. শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়া হলে কিরিচ, লোহার রড, হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

হামলায় ৬৫ বছর বয়সী মো. ফেরদৌস, মো. ওসমান (৫০), রাশেদা (৬০) ও আশরাফুল (২১) গুরুতর আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ১ নম্বর আসামি মো. শহিদুল্লাহ কিরিচ দিয়ে ওসমানকে কোপ দিলে তাঁর কানে গুরুতর জখম হয় এবং মাথায়ও আঘাত লাগে। একইভাবে বৃদ্ধ মো. ফেরদৌসকে হকি স্টিক দিয়ে আঘাত করা হলে তাঁর বাহুতে গুরুতর আঘাত ও হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য আসামিরা লোহার রড ও হকি স্টিক দিয়ে হামলা চালিয়ে বাকিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, আশরাফুলের পকেট থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, মো. ওসমানের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং রাশেদার গলা থেকে প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মো. ওসমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্বজনদের দাবি, তিনি বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে মামলার ১ নম্বর আসামি মো. শহিদুল্লাহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।